What you need to know about Typhoid

Category: Diseases
20 April, 2017  

Share:  

W72p49kl টাইফয়েড একটি সংক্রামক রোগ। শিশু বৃদ্ধ সবারই এই রোগ হতে পারে। টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তস্রোতে ও অন্ত্রনালীতে এই ব্যাটটেরিয়া অবস্থান করে এবং দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে তা দ্রুত সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হতে পারে। দুষিত খাবার ও পানি গ্রহণের মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিযা দেহে প্রবেশ করা মাত্রই গুণিতক আকারে বেড়ে গিয়ে রক্তস্রোতে ছড়িয়ে পড়ে। আর তখনই দেহে জ্বরসহ নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।সাধারণত জীবানু আক্রমনের ১০-১৪ দিন পর জ্বরসহ টাইফয়েড জ্বরের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়।

টাইফয়েড জ্বর কি এবং কিভাবে ছডায়:
  • টাইফয়েড জ্বর স্যালমোনেলা (salmonella ) জীবাণু দিয়ে হয়ে।টাইফয়েড জ্বর বাংলাদেশে খুবই সচরাচর একটি রোগ এবং স্যালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া বাহিত দূষিত খাবার গ্রহণ বা পানি পানের মাধ্যমে যে কেউ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ কারণে বসতিপূর্ণ এলাকার লোকজনের টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
  • টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি স্যালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া বহন করে। এছাড়াও টাইফয়েড জ্বর হতে আরোগ্য লাভ করেছেন কিন্তু এই ব্যাকটেরিয়া বহন করছেন এমন কিছু সংখ্যক ব্যক্তিও এই রোগের বাহক হতে পারে।
  • টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং স্যালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া বহনকারী উভয় ধরনের ব্যক্তিরাই মলত্যাগের মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটিয়ে থাকে।
  • পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা যথাযথ না হলে এবং তার ফলে টাইফয়েড রোগীর মলত্যাগের পর এই ব্যাকটেরিয়া পানির সংস্পর্শে আসলে এবং পরবর্তীতে এই দূষিত পানি খাবারে ব্যবহৃত হলে অথবা টাইফয়েড জ্বরের ব্যাকটেরিয়া বহন করছে এমন কোন ব্যক্তির স্পর্শকৃত বা হাতে বানানো খাবার গ্রহণ থেকেও টাইফয়েড জ্বর সংক্রমিত হতে পারে।
  • সংক্রমিত পানি চাড়াও দুধ কিংবা দুগ্ধজাত সামগ্রী দ্বারা এটি ছড়াতে পারে। অনেক সময় গরু কিংবা ছাগল সালমোনেলা টাইফি দ্বারা আক্রান্ত হলে ওদের অসিদ্ধ বা অর্ধসিদ্ধ দুধ থেকে জীবানুটি মানুষের সংক্রমিত হতে পারে। নারিকেল, চিংড়ি, মাছ, ডিম প্রভৃতি থেকেও জীবানুটি মানুষের ছড়াতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ভেক্টর হিসেবে কাজ করে মাছি। মাছি মানুষের মলমুত্র খেয়ে জীবনধারণ করে। মানুষ যখন মাছিতে বসা খাবার খায় তখন সেটি মানুষে সংক্রমিত হয়। লিনেন, বেডপ্যান এবং চায়ের কাপ থেকে এটি একজন থেকে অন্যজনে সংক্রমিত হতে পারে। অনেক সময় অপারেশনের আগে এক ধরনের পানির পাইপ দিয়ে মলদ্বারে ডুশ দেয়া হয়। এই পাইপের সাহায্যেও এটি সংক্রমিত হতে পারে।

সাধারণত: টাইফয়েড জ্বরের প্রাথমিক লক্ষণ গুলো হলো:
  • প্রধান-উপসর্গ জ্বর। জ্বরটি সাধারণত সবসময়ই থাকে। শরীরের তাপমাত্রা ৪-৫ দিনের মধ্যে নিচে নেমে আসে না। ১০৩-১০৪ ফারেনহাইট (৩৯.৪ অথবা ৪০ সে.) জ্বর
  • গা ম্যাজম্যাজ করা মাথাব্যথা, হাত ও পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা হতে পারে।
  • প্রাপ্ত বয়স্কদের অনেক সময়ই কোষ্টকাঠিন্য দেখা দেয়।
  • শিশুদের ডায়রিয়া এবং বমি হতে পারে।
  • প্রায় সবজ্বরেই শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে একটি নির্দিষ্ঠ আনুপাতিক হারে নাড়ির গতি বৃদ্ধি পায়।১ ডিঃ গ্রীঃ সেঃ এর জন্য ১০টি করে, কিন্তু টাইফয়ের জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নাড়ির গতি নির্দিষ্ঠ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায় না (Reflex bradycardia)
  • সপ্তাহখানেক পরে পেট এবং পিঠে গোলাপি রঙের ফুসকুড়ি দেকা দিতে পারে। এই ফুসকুড়িগুলো একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ঠ্য হল হাতের আঙুল দিয়ে চাপ দিলে ওরা অদৃশ্য হয়ে যায়।
  • অনেক সময় ব্রংকাইটিস কিংবা নিউমোনিয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি এবং শ্বাসকষ্টে ভুগতে পারেন।
  • পেট ফাপা-ফোলা, পেট বুটবুট করা, ডায়রিয়া প্রভৃতি উপসর্গ প্রায়ই দেখা দেয়।
  • দ্বিতীয় সপ্তাহে রোগীকে যদি চিকিৎসা না করা হয় তাহলে তৃতীয় সপ্তাহের মাথায় রোগী মারাত্মক জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন।

টাইফয়েড জ্বরের জটিলতা সমূহঃ
টাইফয়েড জ্বরে জটিলতা সাধারণত তৃতীয় সপ্তাহে দেখা দেয় বিশেষ করে যদি প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে চিকিৎসা শুরু করা না হয়। টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হলে নিচের জটিলতাগুলো দেখা দিতে পারে:
  • অন্ত্রের গাত্র ফুটো হয়ে যাওয়া বা অন্ত্রের প্রাচীর থেকে রক্তক্ষরণ হওয়া। এ সময় শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যেতে পারে। অনেকে ধারনা করতে পারেন জ্বরে সেরে গেছে এবং রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন। কিন্তু আসলে তা নয়। এটি এক ধরনের অশনীসংকেত এবং রোগরি অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হতে হতে শকের দিকে যাচ্চে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে না নিলে মৃত্যু প্রায় অবধারিত।
  • হৃৎপিন্ডের মাংসপেশীতে প্রদাহ
  • অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ (Panereatitis)
  • কিডনিতে (Kidney) সংক্রমণ
  • মেরুদন্ডে সংক্রমণ
  • শরীরের ঝিল্লিতে (Membrane) সংক্রমণ ও প্রদাহ এবং মাথায় ও মেরুদন্ডে তরল/রক্ত (Fluid) জমাট বাঁধা
  • বিভিন্ন ধরণের মানসিক সমস্যা যেমন- বিকারগ্রস্থ (Delirium) , দৃষ্টিভ্রম (Hallucination), মস্তিষ্ক বিকৃতি (Paranoid) দেখা দেয়।

কি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে :
  • রোগের ইতিহাস জানা
  • প্রথম সপ্তাহে টাইফয়েড রোগ নির্নয় করা বেশ জটিল। এ সময় প্রস্রাব কিংবা পায়খানা পরীক্ষা করে অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায় না। তাই প্রথম সপ্তাহে রোগ নির্নয়ের নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হল, রক্তের কালচার পরীক্ষা।
  • দ্বিতীয় সপ্তাহে (Widal Test)ভিডাল টেষ্ট নামক একটি পরীক্ষা করা যেতে পারে। এই টেস্টের মাধ্যমে সালমোনেলা আক্রমনের পর সালমোনেলার বিরুদ্ধে মানবদেহে তৈরি এন্টিবডি নির্নয় করা হয়। অবশ্যভিডাল টেষ্ট কোন নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা নয়। কারণ কোন ব্যক্তি অতীতের কোন এক সময় সালমোনেলা দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকলে এ পরীক্ষাটি পজিটিভ আসতে পারে, যদিও বর্তমানে সে ব্যক্তির শরীরে জীবানু নেই। টাইফয়েড জ্বরের জন্য টিকা নিলেও এ পরীক্ষাটি পজিটিভ আসতে পারে। তাছাড়া আরও অনেক সাধারণ ইনফেকশনের পরও পরীক্ষাটি সাধারণত পজিটিভ আসে। সেজন্য পরীক্ষাটির ব্যবহার দিন দিন কমে যাচ্ছে।
  • দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সপ্তাহে পায়খানা কিংবা প্রস্রাব কালচার করে জীবানুটিকে আলাদা করা যায়। এনেক সময় পিত্তরস এবং পুজ কালচার করেও জীবানুটি আলাদা করা হয়ে থাকে।
  • অস্থিমজ্জা (Bone Marrow) পরীক্ষা

কি ধরণের চিকিৎসা আছে :
  • সালমোনেলা টাইফি জীবানুটি যদি সিপ্রোফ্লক্সাসিনের (Ciprofloxacin) প্রতি রেজিস্ট্রান্ট হয়ে যায় অর্থাৎ সিপ্রোফ্লক্সাসিন সেবনে যদি জ্বর ভালো না হয় তাহলে থার্ড জেনারেশন সেফালোস্পোরিন যেমন সেফট্রিয়াক্সন (Ceftriaxone) বা সেফোট্যাক্সিম (Cefotaxime)ব্যবহার করা যেতে পারে। যে এন্টিবায়োটিক দিয়েই শুরু করা হোক না কেন চিকিৎসা ১০-১৪ দিন পর্যন্ত অব্যাহত রাখা উচিত। এ সময় রোগীরা ধৈয্যহারা হয়ে যান এবং ডাক্তার পরিবর্তন করে ফেলেন। এটি সমীচীন নয়। জ্বরটি যদি সত্যি সত্যি টাফয়েড হয়ে থাকে তাহলে উপরোল্লিখিত যে কোন এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করলেই জ্বর ভালো হওয়ার কথা। যারা দীর্ঘস্থায়ী টাইফয়েড জ্বরের বাহক তাদের ২৮দিন পর্যন্ত ওষুধ সেবন করা উচিত।
  • পানিশূন্যতা দেখা দিলে শিরার মাধ্যমে তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে।
  • উচ্চ ক্যালোরি সম্পন্ন সুষম খাবার গ্রহণ
  • টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পরও যারা দ্রুত চিকিৎসা করেন না তাদের সপ্তাহ বা মাসব্যাপী জ্বর থাকতে পারে এবং বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে :
    • অধিক পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণে দীর্ঘস্থায়ী জ্বর এবং ডায়রিয়ার কারণে সৃষ্ট পানি স্বল্পতা দূরীভূত হয়। এছাড়া তীব্র আকারে পানি শূন্যতা দেখা দিলে শিরাপথে ওষুধ প্রদানের মাধ্যমেও তরলজাতীয় খাবার প্রদান করা যেতে পারে।
    • স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে অসুস্থতাকালীন সময়ে হারানো পুষ্টি পুনরুদ্ধারে উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত।
    • যতদিন পর্যন্ত চিকিৎসক এন্টিবায়োটিক গ্রহণের পরামর্শ দিবেন ততদিন পর্যন্ত তা গ্রহণ করতে হবে।
    • প্রতিবার বাথরুম ব্যবহারের পর আপনার হাত পানি ও সাবান দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।
    • খাবার তৈরি করা বা খাবার পরিবেশন করা থেকে বিরত থাকুন।
    • ভালভাবে ফুটানো, পরিশোধিত বা বোতলজাত বিশুদ্ধ পানিই কেবলমাত্র পান করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে ফুটানো পানি বা পরিশোধিত পানি সংরক্ষণ করুন এবং পানি যাতে দূষিত হতে না পারে সে জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংরক্ষণকৃত সেই পানি পান করুন।
    • বোতলজাত, পরিশোধিত বা ফুটানো পানি হতে বরফ তৈরি করা না হলে সেই বরফ মিশিয়ে পানি বা অন্য কোন পানীয় পান করা হতে বিরত থাকুন।
    • যে সমস্ত সবজি বা ফলমূলের খোসা উঠানো যায় না সেগুলো এড়িয়ে চলুন। আর যে সমস্ত ফলমূলের খোসা উঠানো যায় সেগুলোর ক্ষেত্রে আগে ভালভাবে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে তারপর খোসা উঠানো উচিত এবং সেই খোসা খাওয়া উচিত নয়।
    • রাস্তার পার্শ্বস্থ দোকানের খাবার গ্রহণ এবং পানি পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

টাইফয়েড জ্বর কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় :
  • টাইফয়েড জ্বরের বিরুদ্ধে ইদানীং টিকা পাওয়া যাচ্ছে। মোট তিন ধরনের টিকা পাওা যায়। একটি মুখে খাওয়ার এবং বাকি দুটি ইনজেকশন। তবে টিকা ব্যবহারের সফলতার হার মাত্র ৫০-৮০%।
  • শাকসবজি, ফলমূল এবং রান্নার বাসনপত্র পরিষ্কার পানিতে ধৌত করতে হবে।
  • ভালভাবে রান্নাকৃত বা সিদ্ধকৃত খাবারই কেবলমাত্র পান করুন।
  • খাবার গ্রহণ, প্রস্তত বা পরিবেশনের পূর্বে খুব ভালভাবে হাত ধৌত করুন।
  • টয়লেট ব্যবহারের পর ভালভাবে হাত পরিষ্কার করুন, এছাড়া টয়লেট সব সময় পরিষ্কার রাখুন।

Share:  


© www.ousud.com, All rights reserved.