Tuberculosis - Causes, Symptoms, and Treatments

Category: Health tips
24 March, 2017  

Share:  

Vbceydul যক্ষ্মা/Tuberculosis (TB) একটি সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ যা মূলত ফুসফুসকে আক্রান্ত করে, তবে যক্ষ্মা শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্তঙ্গতেও ছড়াতে পারে। যক্ষ্মা দুই ধরনের।
  • Pulmonary TB - ফুসফুসের যক্ষ্মা
  • Extra-Pulmonary TB বা ফুসফুস বহির্ভূত যক্ষ্মা
তবে ফুসফুসের যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ফুসফুসের যক্ষ্মার কারণ হচ্ছে মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকুলোসিস Mycobacterium tuberculosis (M. Tuberculosis) ।মোট যক্ষ্মা রোগীর শতকরা ৮৫ ভাগই ফুসফুসের যক্ষ্মা রোগী।
ফুসফুসের যক্ষ্মা আবার দুই ধরনের
  1. কফে জীবাণুযুক্ত যক্ষ্মা (Sputum smear Positive) রোগী
  2. কফে জীবাণুযুক্ত যক্ষ্মা (Sputum smear Negative) রোগী।
এই দুই গ্রুপের মধ্যে কফে জীবাণুযুক্ত যক্ষ্মা রোগীরাই মারাত্মক সংক্রামক। এদের ফুসফুস থেকে নির্গত যক্ষ্মা জীবাণু বাতাসের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সুস্থ লোকের শরীরে প্রবেশ করে এদের মধ্যে কেউ কেউ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়।এদের কে বলে প্রাথমিক যক্ষ্মা Primary TB।অধিকাংশ মানুষ প্রাথমিক যক্ষ্মা Primary TB হতে সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যায় কোন রকম চিহ্ন না রেখেই।তবে কিছু সময় জক্ষার জীবাণু লুকায়িত অবস্থায় (dormant) কয়েক বছর থাকতে পারে, এবং দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কবে গেলে এরা আবার রোগীকে আক্রান্ত করে।

কারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ
  • বয়স্করা
  • শিশুরা
  • সেই সব মানুষ যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। যেমন- এইডস রোগী, ডায়াবেটিকস রোগী,যারা কেমোথেরাপি এবং সেই সমস্থ ঔশধ নেয় যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
  • আপনার যক্ষ্মা হওয়ার সুযোগ বেড়ে যাবে যদি
  • আপনার চার পাশে যক্ষ্মা রোগী থাকে।
  • আপনি যদি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় থাকেন।
  • আপনি যদি অপরিশকার জায়গায় থাকেন।
  • আপনি যদি অপুষ্টিতে ভুগেন।
নিম্নোক্ত কারণে সমাজে যক্ষ্মার ব্যাপকতা বৃধি পায়
  • সমাজে এইডস রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে।
  • বাস্তুহারা লোকের সংখ্যা বেড়ে গেলে।
  • যক্ষ্মার ঔষধের কার্যকারিতা প্রতিরোধক ইনফেকশনের কারণে(Drug-resistant strains of TB).
ফুসফুসের যক্ষ্মার লক্ষন সমূহঃ
  • তিন সপ্তাহের বেশি কাশি
  • কফ মিশ্রিত কাশি
  • কফ মিশ্রিত রক্ত
  • অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে মূলত রাতে।
  • অবসাদ্গ্রস্থতা
  • জ্বর মূলত রাত্রিকালীন
  • ওজন কমে যাওয়া
  • শ্বাসকষ্ট
  • বুকে ব্যথা
  • শ্বাসের সময় গরগর শব্দ হওয়া(Wheezing)
  • ক্ষুধামন্দা
ফুসফুস ছাড়া শরীরের সব স্থানেই যক্ষ্মা হতে পারে, শুধু চুল, হাতের নখ এবং দাঁত ছাড়া। একে বলা হয় Extra Pulmonary TB ফুসফুস বহির্ভূত যক্ষ্মা। কিডনী, অন্ত্র, হার্ট, জয়েন্ট, শিরদাড়া, নাক, চোখ, চামড়া এমনকি স্ত্রী-পুরুষের যৌনাঙ্গেও এই রোগ হতে পারে। তবে এই যক্ষ্মা একেবারেই কম সংক্রামক।

Extra Pulmonary TB ফুসফুস বহির্ভূত যক্ষ্মার লক্ষণ

শরীরের অঙ্গ ভেদে এই লক্ষণ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে
  • কিডনি
    মাঝে মাঝে পেটের পেছনের দিকে কিডনির অবস্থানে ব্যথা হয়।প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত হতে পারে তবে অনেক সময় তা খালি চোখে দেখা যায় না। পেশাবে জ্বালাপোড়া ও ঘন ঘন পেশাব হয়।
  • অন্ত্র ও খাদ্যনালী
    ক্ষুধামন্দা, বদহজম, পেটফাঁপা, পেটব্যথা, পেটের মধ্যে বুটবাট শব্দ করা কখনও পাতলা পায়খানা, খাবারে অরুচি ইত্যাদি। সাধারণ চিকিৎসায় এগুলো উপশম হয় না।
  • অন্ডকোষ এবং এর আনুষঙ্গিক অঙ্গ (এপিডিডামিস)
    অন্ডকোষ ও এপিডিডামিস ফুলে যায়, ব্যথা হয়।
  • জয়েন্ট, হাড় ও শিরদাড়া
    এগুলো ফুলে যায়, ব্যথা হয়, শিরদাড়া বাঁকা হয়ে যেতে পারে।
  • মেয়েদের যৌনাঙ্গ, জরায়ু, ফেলোপিয়ান টিউব ও ওভারি
    তলপেটে ব্যথা হয়, দুই পাশে বেশি ব্যথা হতে পারে এবং পেটে হাত দিলে অনেক সময় শক্ত কিছু অনুমিত হয়। এখানে একটি কথা বিশেষভাবে বলা দরকার যে যদি কোন যুবতী মেয়ের কোন কারণ ছাড়াই হঠাৎ মাসিক বন্ধ হয়ে যায় তবে অনেক ক্ষেত্রেই ধরে নেয়া যায় তার জরায়ুতে যক্ষ্মা হয়েছে। পরীক্ষার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা সত্যে পরিণত হয়। দুঃখের বিষয় এদের অনেকেই জীবনে আর কখনও মা হতে পারে না।
  • পুরাল ইফিউশন ও পেরি কার্ডিয়াল ইফিউশন
    কখনও কখনও যক্ষ্মার কারণে ফুসফুসের অন্ত ও বহিরাবরণের মধ্যে এক ধরনের তরল পদার্থ জমে এটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পানির মতো দেখা যায়, কখনও বা রক্ত অথবা দুধের মতো দেখা যেতে পারে। একে বলা হয় পরাল ইফিউশন এবং একই কারণে হৃৎপিন্ডেও এ ধরনের পদার্থ জমতে পারে। এর নাম পেরিকার্ডিয়াল ইফিউশন। এর ফলে বুকে ব্যাথা, বুক ধড়ফড়, শ্বাস কষ্ট, কাঁশি ও জ্বর হতে পারে। পানি জাতীয় পদার্থ বেশি জমা হলে শ্বাসকষ্ট এত তীব্র হয় যে তখনই এটা বের করা না হলে মারাত্মক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
  • চামড়া
    চামড়ায় যক্ষ্মা হলে চামড়া ফুলে যায়, লাল হয়ে ওঠে, ঘা হয় এবং কালো কালো দাগ পড়তে পারে। ঘা এর মাঝখানটা নিচু থাকে।
এ ছাড়াও আরও দুই ধরনের মারাত্মক যক্ষ্মা আছে। এ দুটির নাম ম্যানেঞ্জিয়াল টিবি এবং মিলিয়ারি টিবি। সময় মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না হলে এ রোগে মৃত্যু অনিবার্য। ম্যানেঞ্জিয়াল টিবিতে জ্বর হতে পারে। খাওয়ায় অরুচি দেখা দেয় ও বমি হতে পারে। মাধা ধরে, ঘাড় শক্ত হয়ে যেতে পারে, এমনকি রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে এবং খিচুনী হতে পারে। তবে বিসিজি টীকা দেয়ার কারণে এ ধরনের যক্ষ্মার প্রকোপ বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। মিলিয়ারী টিবিতে যক্ষ্মার জীবাণু রক্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া খুব বেশি জ্বর, দুর্বলতা এবং ওজন হ্রাস পেতে পারে।
শরীরের আক্রান্ত স্থান ভেদে যক্ষ্মার স্থানীয় লক্ষণে তারতম্য থাকলেও সব যক্ষ্মার সাধারণ লক্ষণ একই। যেমন ওজন হ্রাস, ক্ষুধামন্দা, ঘুষঘুষে জ্বর বিশেষ করে সান্ধ্যকালীন সময়ে, শরীর দিয়ে দরদর করে ঘাম ঝরা, ক্লান্তি এবং ভাল না লাগা। বোধ করি এখানে যক্ষ্মার একেবারে প্রারম্ভিক লক্ষণ সম্পর্কে কিছু বলা দরকার। কোন সুস্থ লোকের শরীরে যক্ষ্মা জীবাণু প্রবেশ করার তিন থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে তার শরীরে কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন খুব অল্প অল্প জ্বর, কারণ ছাড়াই চোখ দুটো একটু লাল হওয়া এবং শরীরের চাপ কেন্দ্রে (প্রেসার পয়েন্ট) যেমন-কনুই, হাঁটু, কবজি ইত্যাদি স্থানে ব্যাথা যুক্ত লালচে দাগ ইত্যাদি। এসব লক্ষণ আপনা আপনি ভাল হয়ে যেতে পারে।

পরীক্ষা সমূহ

  • বুকের এক্সরে
  • কফে জীবাণু পরীক্ষা (Sputum examination and cultures)।
  • টিওবারকুলিন স্কিন টেস্ট - Tuberculin skin test (also called a PPD test)।
  • বুকের সিটি স্কান
  • আক্রান্ত স্থানের মাংস নিয়ে পরীক্ষা (Biopsy)

চিকিৎসা

ডটস পদ্ধতিতে অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদী, সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যক্ষা রোগের চিকিৎসা করা হয়। এজন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগের ধরণ, মাত্রা এবং রুগীর বয়স অনুসারে ঔষধের কোর্স সম্পূর্ণ করতে হবে। যক্ষার চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে: এন্টিবায়োটিক সেবন। সাধারণত ৬-৯ মাস ব্যাপী এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন করতে হবে।
যক্ষ্মার ওষুধ
  • প্রথম সারির ওষুধ
    • রিফাম্পিসিন
    • আইসোনিয়াজিড
    • পাইরাজিনামাইড
    • ইথামব্যুটল
    • স্ট্রেপ্টোমাইসিন
  • দ্বিতীয় সারির ওষুধ
    • ওফ্লক্সাসিন
    • রিফাবিউটিন
    • ইথিওনামাইড
    • সাইক্লোসেরিন
    • প্যারা অ্যামিনো স্যালিসিলেট

যক্ষ্মা প্রতিরোধ করার উপায়

জনাধিক্য, অসচেতনতাসহ নানা কারণে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ থেকে যক্ষ্মা একেবারে নির্মূল সম্ভব নয়। ২০১২ সালে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৪ জন যক্ষ্মারোগী সনাক্ত করা হয়েছে। পূর্ববর্তী এক বছরে এ রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৬ হাজার।চিকিৎসার আওতায় আসেনি এমন একজন,কফে জীবাণুযুক্ত যক্ষ্মা রোগী বছরে একজন করে নতুন যক্ষ্মা রোগীর জন্ম দেয়। এভাবে সমগ্র কমিউনিটির মধ্যে যক্ষ্মা রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে কফ পরীক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যাতে কফে জীবাণুযুক্ত যক্ষ্মা রোগীদের সহজে শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় এনে রোগ ছড়ানোর পথ বন্ধ করা এবং রোগ নির্মূল করা যায়।
  • জন্মের পর পর প্রত্যেক শিশুকে বিসিজি টিকা দেয়া
  • হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় রুমাল ব্যবহার করা
  • যেখানে সেখানে থুথু না ফেলা
  • রোগীর কফ থুথু নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলে তা মাটিতে পুঁতে ফেলা
Learn more here

Share:  


© www.ousud.com, All rights reserved.