Dengue Fever - ডেঙ্গু জ্বরে করনীয়

Category: Diseases
24 June, 2016  

Share:  

Wtiacjb ডেঙ্গু জ্বর একটা ভাইরাস জনিত রোগ। ডেঙ্গু জ্বরের কারন হচ্ছে ডেঙ্গু ভাইরাস যা ৪ প্রকারের। ডেঙ্গু ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়ায় মশার মাধ্যমে। ইহা উপকূলীয় অঞ্চলের রোগ। এই রোগ সারা বছর হতে পারে তবে মূলত বর্ষা কালে এর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। মানুষের থেকে মানুষে এই রোগ ছড়ায় না।

ডেঙ্গু জ্বর নিম্নলিখিত মেয়ে এডিস মশার কামুড়ে ছড়ায়ঃ
  • Aedes aegypti
  • Aedes albopictus
এরা বাঘ মশা নামে পরিচিত কারন তাদের গায়ে ডোরা কাটা দাগ থাকে। এডিস মশা মূলত সকালে কামড়ায় এবং বাড়ির আশে পাশের জমা পানিতে বংশ বিস্তার করে।
৮০% ডেঙ্গু রোগীদের কোন লক্ষণ দেখা দেয় না।৫% রোগী অতন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছু মানুষের জন্য রোগটি মৃত্যুর কারন হয়ে দাড়ায়।

লক্ষন সমুহঃ
  • উচ্চ তাপমাত্রা ৩-৭দিন
  • প্রচণ্ড মাথা ব্যথা
  • চোখের পিছনে ব্যথা
  • সারা শরীরের মাংসে এবং গিঁটে গিঁটে ব্যথা
চামড়ার নিচে ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি (rash) জ্বরের দ্বিতীয় দিন দেখা দিবে অথবা জ্বর কমে যাওয়ার (৪-৭দিন) পর।কৈশিক নালী (Capillary) ভেঙ্গে যাবার কারনে ছোট ছোট লাল দাগ যা চাপ দিলেও মিশে যাবে না (petechiae)দেখা দিতে পারে সারা শরীরে।দাঁতের গোঁড়া, নাক থেকে রক্ত বের হতে পারে।
এই সমস্ত লক্ষণ গুলো Febrile Phase এর লক্ষন,যা দেখা দিলেও কিছু মানুষ কিছুদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্ত হয়ে যেতে পারে।
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ডেঙ্গু জ্বর Critical Phase এ যেতে পারে যা উচ্চ তাপমাত্রার পর দেখা দিতে পারে এবং থাকবে ২-৩ দিন। এই সময় বুকে এবং পেটে পানি জমতে পারে অতিরিক্ত কৈশিক নালী (Capillary) ভেঙ্গে যাবার কারনে।যার ফলে রক্ত নালিতে fluid এর পরিমান কমে যাবে এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্তের সরবরাহ কমে যাবে। ৫% রোগীর ক্ষেত্রে এই সময় অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে এবং অতিরিক্ত রক্তপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে (dengue hemorrhagic fever)। অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে রোগী shock এয় চলে যেতে পারে (dengue shock syndrome)।এই সমস্ত লক্ষন দেখা দিলে রোগিকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

সতর্ক সংকেত সমূহঃ
  • প্রচণ্ড পেটে ব্যথা
  • বমি
  • রক্তপাত হবে একের অধিক জায়গা হতে
  • গাঢ় প্রস্রাব অল্প পরিমানে হওয়া
  • অতরিক্ত দুর্বলতা
  • শ্বাসকষ্ট
  • ৩ দিনের বেশি ডেঙ্গু রোগের লক্ষন থাকা
তারপর Recovery Phase শুরু হবে, এবং এর সময়কাল ২-৩ দিন।এই স্ময় সারা শরীরে চুলকানি হতে পারে এবং হৃদস্পন্দন কমে যেতে পারে।আই সময় আরও হতে পারে fluid overload যা brain এ affects করলে খিচুনি অথবা রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।
রোগ নির্ণয়ের উপায়ঃ ডেঙ্গু রোগ নির্ণয় করতে হয় রোগির লক্ষন সমূহ দেখে।তবে ডাক্তার কিছ পরীক্ষা যেমন CBC. Total platelet Count. Anti dengue Antibody ইত্যাদি পরীক্ষা করতে পারে।
হাসপাতালে ভর্তি রগির ক্ষেত্রে পরীক্ষা গুলো বারবার করা হতে পারে।
চিকিৎসা সমূহঃ ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই।রোগের লক্ষন অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে।
জ্বরের জন্য paracitamol ৬ঘণ্টা পরপর দিতে হবে, এবং জ্বর ১০২ডিঃগ্রীঃ সেলসিয়াস এর বেশি হলে suppository paracitamol পায়খানার রাস্তায় ব্যবহার করতে হবে।পানি শূন্যতা প্রতিরোধ এর জন্য প্রচুর সালাইন,ডাবের পানি,ডাল,জুস দিতে হবে।
হাসপাতালে ভর্তি এবং শিরায় স্যালাইন দেওয়া নির্ভর করে সতর্ক সংকেত সমূহের উপর যা উপরে বর্ণিত রয়েছে।বাচ্চা এবং বয়স্কদের তাড়াতাড়ি হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে কারন তারা তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে যায়।

প্রতিরোধঃ
  • ঘুমানোর সময় দিনে/রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে
  • বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাকতে হবে
  • খেয়াল রাখতে হবে কোথাও যাতে পানি জমে থাকতে না পারে যেমন ফুলের টব,নারিকেলে মালা,পরিত্যক্ত বালতি ইত্যাদি
  • মশা নিয়ন্ত্রনের জন্য মশা নিয়ন্ত্রন ঔষধ ব্যবহার করতে হবে

Share:  


© www.ousud.com, All rights reserved.